নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজনীতির ময়দান উত্তপ্ত। একদিকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাম জন্মভূমি সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্য, অন্যদিকে রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন তৎপরতা— সব মিলিয়ে বঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ এক নতুন মোড় নিল।
রাম মন্দির নিয়ে বিতর্কিত বয়ান: কাঠগড়ায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সম্প্রতি তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ভিডিও ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যেখানে তাঁকে বলতে শোনা গেছে যে, রাম জন্মভূমির রায় দেওয়া নাকি একটি ‘ভয়ঙ্কর ভুল’ ছিল। এমনকি তিনি এও দাবি করেন যে, তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হলে নাকি এমন রায় আসতেই দিতেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরের মতো আসনে যেখানে বিপুল সংখ্যক হিন্দু এবং অহিন্দিভাষী ভোটার রয়েছেন, সেখানে কল্যাণের এই ‘রাম-বিরোধী’ মন্তব্য তৃণমূলের জন্য বুমেরাং হতে পারে। যেখানে শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ভবানীপুর থেকে লড়াই করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন, সেখানে কল্যাণের এই বক্তব্য মমতার ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জেলের আসামি ছেড়ে ভোট লুট? কমিশনের কড়া পদক্ষেপ
নির্বাচন কমিশন এবার পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে সবথেকে বড় ‘অপারেশন’ শুরু করেছে কারাগার বা জেল দপ্তরে। অভিযোগ ছিল, নির্বাচনের সময় তান্ডব চালানোর জন্য কারাগার থেকে কুখ্যাত আসামিদের দু-তিন দিনের জন্য কৌশলে ছেড়ে দেওয়া হতো। এই চক্র ভাঙতে খোদ কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জেল দপ্তরের শীর্ষ পদে নটরাজন রমেশ বাবুকে নিয়োগ করেছেন। কমিশনের লক্ষ্য পরিষ্কার— কোনোভাবেই যেন অপরাধীরা ভোটের সময় জেলের বাইরে এসে সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখাতে না পারে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাঁধে বাড়তি দায়িত্ব ও প্রযুক্তির নজরদারি
২০২১-এর শীতলকুচি বা ভোট পরবর্তী হিংসার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার প্রযুক্তিতে ভরসা রাখছে কমিশন:
• বডি ক্যামেরা ও জিপিএস: কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের গায়ে থাকবে লাইভ বডি ক্যামেরা এবং জিপিএস ট্র্যাকিং।
• ড্রোন ও ওয়েবকাস্টিং: স্পর্শকাতর বুথগুলোতে মাথার ওপর ড্রোন ঘুরবে এবং ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি দিল্লি থেকে নজরদারি চালানো হবে।
• বিএলও-র মাধ্যমে ভোটার স্লিপ: এবার আর কোনো রাজনৈতিক দলের ক্যাডার বাড়িতে ভোটার স্লিপ দিতে পারবে না; এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএলও (BLO)-দের ওপর।
আদালতের চড়: বেলডাঙা মামলা ও ইউএপিএ (UAPA)
বেলডাঙার দাঙ্গায় অভিযুক্তদের বাঁচাতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে গেলেও সেখানে বড় ধাক্কা খেয়েছেন তিনি। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশ অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত এবং এনআইএ (NIA) তদন্তে কোনো বাধা দেওয়া যাবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ইউএপিএ আইন প্রয়োগের পথ এখন প্রশস্ত।
উপসংহার
শুভেন্দু অধিকারীর ‘বজুয়ে কাতিল’ চ্যালেঞ্জ বনাম তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিতর্কিত মন্তব্য— সব মিলিয়ে এবারের লড়াইটা আর আগের মতো সহজ নয়। একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি, অন্যদিকে ভোটারদের আবেগ নিয়ে খেলা; শেষ হাসি কে হাসবে, তা সময়ই বলবে।
bi
